বাংলা ব্লগারে আপনাকে স্বাগতম, সবার আগে সঠিক তথ্য পেতে আমাদের সাথে থাকুন সব সময়। আমাদের বেশির ভাব তথ্য বিশ্লেষন করে তারপর উপস্থাপন করা হয়। শতভাগ তথ্য অনলাইন থেকে সংগ্রহ করে বিশ্লেষনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। আপনি চাইলে যে কোন তথ্য আমাদের কাছেও পাঠাতে পারেন।
তো চলুন আজকের বিষয়’টি নিয়ে পড়ে নেওয়া যাক..

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিতর্কিত প্রিয়া সাহাকে সরকার নিরাপত্তা দেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বুধবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মাল্টা সফর শেষে বুধবার ঢাকায় ফিরেন মন্ত্রী।

বিকেলে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে এলে তাকে গ্রেপ্তার বা মামলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। আমি তাকে বলেছি, প্রিয়া সাহাকে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলাও করতে চাই না। আমরা তাকে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উনি (প্রিয়া সাহা) উনার বক্তব্য দিয়েছেন। তবে বক্তব্য যেহেতু মিথ্যা এবং বানোয়াট এতে আমাদের দেশের অনেক লোকই অসন্তুষ্ট। তারা যদি কিছু করে তখন যদি উনি চান তাহলে তাকে নিরাপত্তা দেব। সরকার প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়। আমি বলেছি, সরকার উনার বিরুদ্ধে মামলা করবে কেন, সেটা আগে বুঝতে হবে।

ড. মোমেন বলেন, আমরা বলেছি মার্কিন সরকার যেহেতু ধর্মীয় সম্প্রীতি চাচ্ছে, সে জন্য তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ তাদের আয়োজকরা দায়িত্বশীল লোকদের আনলে এ ধরনের অবান্তর বিতর্ক সৃষ্টি হয় না।

প্রিয়া সাহা সেখানে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেননি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলায় আমি। বাংলাদেশ সরকার থেকে চার সদস্যের প্রতিনিধি যোগ দেন। প্রিয়া সাহা সেখানে সরকারের প্রতিনিধি ছিলেন না।

তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার এ বক্তব্য আমার নজরে আসার পরে ওয়াশিংটনে থাকতেই আমি বলেছি, এটা বানোয়াট মনগড়া।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বিলীন হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। সেখানে এখনো ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সাহায্য করুন।’

ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে এমন অভিযোগের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিয়ে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া এসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও। এক ফেসবুক পোস্টে রোববার তার অভিযোগগুলোকে ভয়ঙ্কর মিথ্যা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

অভিযোগ উঠলেও প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে এখনই রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, সবার আগে প্রিয়া সাহার বক্তব্য শুনবে সরকার। এরপর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া প্রিয়ার অভিযোগকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে মনে করেন না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, এটা তার (প্রিয়া সাহার) ব্যক্তিগত ঈর্ষা চরিতার্থের জন্য করেছেন। তার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহ হয়ে গেছে বলে মনে করি না।

News Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *